Published : 16 Jul 2026, 07:14 AM
আটলান্টায় ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ২-১ গোলে জয় নিশ্চিত করে বিশ্বকাপ ফাইনাল জেতার পর আর্জেন্টিনা শিবিরে ছিল বাঁধভাঙা আনন্দ আর গভীর আবেগ। এই উল্লাসের মাঝে অনেকের চোখে জল ছিল। তবে এই আবেগের স্রোতে সবচেয়ে বেশি ভেসেছেন জয়সূচক গোলের নায়ক লাওতারো মার্তিনেজ। ম্যাচ শেষে টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অশ্রুসজল কণ্ঠে তিনি জানান, এমন একটি গোল করার স্বপ্ন তিনি অনেক দিন আগে থেকেই পোষণ করতেন। আবেগে কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে আসা মার্তিনেজ বলেন, ‘সত্যি বলতে কী বলব, অনুভূতিটা অপরিসীম! বাবা যখন আমার জন্য প্রথম ফুটবল বুট কিনে দিয়েছিলেন, ঠিক সেই সময় থেকেই আমি এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।’ আরও পড়ুন ‘আমরা সত্যিই অনন্য’—বিশ্বকাপে টানা দ্বিতীয়বার ফাইনালে ওঠার পর স্কালোনি ১০ মিনিট আগে মায়ের কথা বলতে গিয়ে নিজেকে সামলাতে পারেননি এই তারকা। কান্নার সুরে তিনি বলেন, ‘এই মুহূর্তটা আমার মায়ের জন্য। যেদিন আমি রেসিং ক্লাবে যোগ দিতে বাড়ি ছেড়েছিলাম, সেদিন থেকে তিনি কখনো আমার বিছানা গোছানো বন্ধ করেননি। আমার কাছে সেই সম্পর্কের মূল্য কোনো গোল বা ফাইনালের চেয়েও অনেক বেশি।’ সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে জয় নিশ্চিত করা তৃতীয় গোলটি এবং গ্রুপ পর্বে জর্ডানের বিপক্ষে পেনাল্টি থেকে গোল করা মার্তিনেজ যোগ করেন, ‘আমার দুই সন্তান আমার জীবনকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়েছে।
তাদের আসার পর আমি অনেক শান্ত হয়েছি। এখন আমি এই মুহূর্তগুলো উপভোগ করতে শিখেছি। আজ আমি একজন পরিণত মানুষ, জীবনকে উপভোগ করতে শিখেছি।’ ইন্টার মিলানের এই স্ট্রাইকারের জন্য এটি অন্য কোনো বিশ্বকাপের মতো নয়। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতলেও একটি গোলও করতে পারেননি, ফলে সেই সাফল্যে কিছু আক্ষেপ ছিল। তাই এবারের বিশ্বকাপ তিনি নিজেকে প্রমাণ করার মঞ্চ হিসেবে দেখেছিলেন। আরও পড়ুন বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে মার্তিনেজদের হাতে ব্যানার ছিল ‘ফকল্যান্ড আর্জেন্টিনা’। ২০ মিনিট আগে মার্তিনেজ বলেন, ‘আমি এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি শপথ করে বলেছিলাম, আমি অ্যালেক্সিসকে (ম্যাক অ্যালিস্টার) বলেছিলাম আমি গোল করব। ফাকুকেও (মেদিনা) বলেছিলাম, আমি বদলি হিসেবে নেমে ম্যাচটা জিতিয়ে দেব।
’ কিছুটা আবেগ সামলে পরে ম্যাচটি নিয়েও বিশ্লেষণ করেন মার্তিনেজ, ‘এই দলটা আবারও প্রমাণ করল, তারা কী দিয়ে তৈরি। তারা প্রায় ৬০ মিনিট আমাদের ওপর দারুণ চাপ সৃষ্টি করেছিল। এরপর তারা সেই গতি ধরে রাখতে পারেনি। গোল করার পর তারা কিছুটা রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে। এতে আমরা বলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিজেদের খেলাটা খেলতে পেরেছি। শেষ পর্যন্ত আমরা গোল পেয়েছি, এবং আবারও বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছি।’ নিউ জার্সিতে আগামী রোববার রাতে বিশ্বকাপের ফাইনালের জন্য স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা।।